সর্বশেষ :

রহস্যময় দ্বীপ নান মাদোল।

নির্জন দ্বীপ নান মাদোল -এ রহস্যময় প্রাচীন শহর

ট্রাভেলার নিউজ ডেস্ক :

ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়কে বলা চলে ইংরেজি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ। এ সময় ধ্রুপদী সাহিত্যের পাশাপাশি কিছু আজগুবি লেখাও পাঠকের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। বিশেষ করে নতুন নতুন মহাদেশ ও দ্বীপ ‘আবিস্কার’ হওয়ার ফলে ওইসব দেশ বা অঞ্চলের অধিবাসীদের নিয়ে নানা রহস্যময় কল্পকাহিনী ছিল এসব লেখার উপজীব্য। রবিনসন ত্রুক্রসো, ট্রেজার আইল্যান্ড, মিস্টেরিয়াস আইল্যান্ড বা গালিভার্স ট্রাভেলস থেকে এর কিছুটা নমুনা মেলে। এর বাইরেও কিছু লেখায় দ্বীপগুলোয় বসবাসকারীদের সম্পর্কে যেসব বর্ণনা রয়েছে, তার আদৌ বাস্তব ভিত্তি নেই। যেমন মাথা-ছাড়া মানুষ, কোনো দ্বীপের বাসিন্দাদের পা উপরে, মাথা নিচে। মানুষখেকো বা ক্যানিবালদের নিয়ে তো হাজার হাজার বই রয়েছে। মূলত সমুদ্রচারীরা দেশে দেশে গিয়ে নানা ধরনের গল্প বলে বেড়াত। আর তা থেকেই লেখকরা মনের মাধুরী মিশিয়ে রহস্যময় গল্প লিখতেন। সেই কাল গত হয়েছে অনেক আগে। আধুনিক সভ্যতায় মানুষ আর সেসব গল্প বিশ্বাস করে না। তার পরও কিছু রহস্য থেকে যায়। এমনই একটি রহস্যময় দ্বীপের সন্ধান পেয়েছেন একদল অভিযাত্রী গবেষক। দ্বীপের নাম নান মাদোল।

রহস্যময় দ্বীপ নান মাদোল।

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাইক্রোনেশিয়ার পনফেই দ্বীপের পাশেই ছোট এই দ্বীপটির অবস্থান। অস্ট্রেলিয়া থেকে এক হাজার ৬০০ এবং লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আড়াই হাজার মাইল দূরে এর অবস্থান।

মাঝসমুদ্রের ওই নির্জন দ্বীপের মূল রহস্য হলো এর প্রাচীন শহর। পনফেইর বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘ভুতুড়ে দ্বীপ’ হিসেবেই পরিচিত। কারণ রাত হলেই চেহারা পাল্টে যায় দ্বীপটির। সেখানে নাকি এক রাত থাকলে মৃত্যু অনিবার্য!

রহস্যময় দ্বীপ নান মাদোল।

গবেষকরা ওই দ্বীপে গিয়ে দেখেছেন, সেখানে ৯৭টি আলাদা ব্লক রয়েছে। সরু খালের মতো জলাশয় ব্লকগুলোকে একে অপর থেকে আলাদা করে রেখেছে। আশপাশে তেমন কোনো সভ্যতার চিহ্ন নেই। চারদিকে জলাশয়ের কারণে দ্বীপটিকে বলা হয় ‘প্যাসিফিকের ভেনিস’। দ্বীপে নামলে দেখা যায় সেখানে রয়েছে অনেক প্রাচীর, যার দেয়াল ২৫ ফুট লম্বা আর ১৭ ফুট মোটা।
নান মাদোল শব্দটির অর্থ হলো, দুটি জিনিসের মাঝখানে থাকা কোনও বস্তু। পনফেই দ্বীপের বাসিন্দারা ওই দ্বীপের ধারে-কাছে যেতে চান না।

তাদের দাবি, ওই দ্বীপে ভূত আছে। তবে, অনেকে পর্যটকদের নিয়ে সেখানে যান শুধুমাত্র দিনের আলোতেই। কারণ, রাতের অন্ধকারে আলোকোজ্জ্বল অদ্ভুত সব বস্তু ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন তারা।

রহস্যময় দ্বীপ নান মাদোল।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ১১৮০ সাল নাগাদ নান মাদোলে পাথর ও প্রবাল দিয়ে এই শহর তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাঝসমুদ্রে এমন একটি দ্বীপে কারা শহরটি তৈরি করল, তা আজও অজানা। তবে গবেষক দলের প্রধান মার্ক ম্যাককয় মনে করেন, বর্তমান অবস্থায় যা দেখা যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট, নান মাদোল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের ইতিহাসে প্রথম প্রতিনিধিত্বকারী। আর শহরটি ছিল পুরো দ্বীপের রাজধানী। তিনি বলেন, এটি ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল। একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোরও তীর্থস্থান। তা ছাড়া এই শহরটি দ্বীপের সাবেক প্রধানদের বিশ্রাম বা অবসরযাপন কেন্দ্রও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *