সর্বশেষ :

টাওয়ার অফ লন্ডন

ট্রাভেলার নিউজ ডেস্ক :

বিশ্বের প্রাচীনতম ক্যাসল বা দুর্গের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’। ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ হল মূলত বেশ কয়েকটি টাওয়ারের সমন্বয়ে গড়া একটি প্রাচীন দুর্গ। এই প্রাচীন দুর্গেই রয়েছে ভারতবর্ষ থেকে সংগৃহিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রাজমুকুট ‘কোহিনূর’।

সারা বছর জুড়েই প্রাচীন স্থাপত্যকলার সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা এ টাওয়ারগুলো দেখতে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় লেগে থাকে। মধ্যযুগীয় রাজাদের আমলে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ রাজপ্রাসাদ হিসেবে গড়ে উঠলেও এক সময় এটি অত্যাচার, অবিচার আর শিরচ্ছেদের মতো নানা ভয়ানক ও হৃদয়বিদায়ক ঘটনার সাক্ষী হয়ে ওঠে।

‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ পৃথিবীব্যাপী অতিপরিচিতি হওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল ইংল্যান্ডের সব রাজকীয় গয়না ও সম্পদের রাজভাণ্ডার এটি। রাণীর সব মুকুট এখানেই সুরক্ষিত আছে। শত শত বছরের পুরনো সেসব অলঙ্কারের পাশাপাশি স্বর্ণের কারুকার্য খচিত রাজপ্রাসাদের আসবাসপত্র প্রতিনিয়তই বিশ্বপর্যটকদের কাছে টানে। ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ -এর ঠিক মাঝখানে রয়েছে ‘দ্য ক্রাউন জুয়েল’। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই স্থানটিতেই রক্ষিত আছে রাজপরিবারের মহামূল্যবান রতœ ভাণ্ডার।

রাণীর রত্ন সম্ভারের মধ্যে সেরা হল ‘কোহিনূর’, ‘স্টেট ইম্পিরিয়াল ক্রাউন’, ‘ব্লাক প্রিন্সেস রুবি’ এবং ‘কালিনান হীরা’সহ আরো বেশকিছু রাজমুকুট। এর মধ্যে অনন্য হচ্ছে কোহিনূর। দিল্লীর সম্রাটদের রতœভাণ্ডারের এ হীরক খণ্ডটি ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে যায়। পরপর ছয়টি রত্খনচিত এ রাজমুকুটের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ কোনো মুহূর্তে রাণী এ মুকুট পরে থাকেন। ‘স্টেট ইম্পিরিয়াল ক্রাউন’ নামের মুকুটটি রাণী প্রতি বছর পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরুর দিনে পরেন। এ মুকুটের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ৩ হাজার ছোট ছোট মণি-মুক্তার গোছায়।

ইংল্যান্ডের রাজপরিবারের পুরো ইতিহাস জানতে হলে আপনাকে আসতে হবে ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ -এ । বিশাল আকৃতির বেশ কয়েকটি প্রাসাদ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজার বছরের জীবন্ত ইতিহাস হয়ে। এটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসহ হাজার বছরের পুরনো এ দুর্গ কৃষক অভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা হামলা, রাজবন্দিদের হত্যা-নির্যাতনসহ নানা স্মৃতিকথার সাক্ষ্ী। এ দুর্গকে ঘিরে লোকমুখে এখনও রটছে নানা কল্প-কাহিনী।

টেমস নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত সল্ট টাওয়ার, ব্রড আ্যরো টাওয়ার, কনস্টেবল টাওয়ার, মার্টিন টাওয়ার, বিউক্যাম্প টাওয়ার, লোয়ান উইকফিল্ড টাওয়ারসহ বেশকিছু টাওয়ার নিয়ে গড়ে ওঠা ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ এর অবস্থান লন্ডন ব্রিজের কাছেই। দুর্গটির আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে কৃত্রিমভাবে তৈরি পপি ফুলের গাছ। ৮ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৬টি সিরামিকের তৈরি পপিগাছের লাল ফুল দূর থেকে ভেসে উঠে রক্তের স্রোতধারা। দৃষ্টিনন্দন এ প্রাসাদ থেকে বের হয়েই চোখে পড়বে লন্ডন ব্রিজ। পড়ন্ত বিকালে টেমস নদীর তীরে হাঁটতেও ভীষণ ভালো লাগে।

ইংল্যান্ডে বেড়াতে এলে কালের সাক্ষী হাজার বছরের জীবন্ত ইতিহাস ‘টাওয়ার অফ লন্ডন’ দেখতে ভুলবেন না যেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *