সর্বশেষ :

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

একদিকে গর্জন তুলে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ছে উত্তাল তরঙ্গমালা। আরেকদিকে শান্ত জলাধারে শীতল হাওয়ার প্রাণ জুড়ানো হিমেল পরশ। যেন কোন বাউলের সঙ্গে একাগ্রচিত্তে বেজে চলা অনবদ্য একতারার মনোজ্ঞ যুগলবন্দী।

বাঁধের ওপর দিয়ে চলে যাওয়া পিচঢালা পথের একপাশ জুড়ে যুবতী বাবলার পাতায় পাতায় শিহরণ জাগানো দখিণা হাওয়া। বিচিত্র গড়নে বেড়ে ওঠা গাছগুলির কোন কোনটি বেঁকে বেঁকে তৈরী হয়ে আছে অতিথিদের বসার আসন হয়ে। বাবলার ছায়ায় পেতে রাখা আসনে বসলেই এক ঝলক নির্মল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। প্রকৃতির পাতা আসনে বসে হাওরের বিশাল জলরাশি আর আকাশের অসীম নীলিমায় তুখোর দৃষ্টিও হোঁচট খায়। দিগন্তজুড়ে বিস্তৃত জলরাশি আর মাথার উপর অবারিত নীল আকাশ অহংবোধের সীমানা তুলে দিয়ে এখানে মিলেমিশে একাকার। চন্দ্র-সূর্য উদয় হয় এখানে হাওরের গর্ভ থেকে। বলছিলাম কিশোরগঞ্জের হাওর রাণীখ্যাত নিকলী উপজেলার সম্ভাবনাময় হাওরাঞ্চলের কথা।

কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর ইতোমধ্যে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশাল জলরাশির ওপর নীল আকাশে ভাসমান মেঘের ভেলার দিকে তাকিয়ে উদাস হয়েছেন অনেকেই। বিশুদ্ধ প্রকৃতির মাঝে নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এ এক চমৎকার জায়গা। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ কিংবা নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা – এসব কিছুর বালাই নেই এখানে। এ কারণে দিন যত গড়াচ্ছে চারিদিকে তত ছড়িয়ে পড়ছে নিকলী হাওরের সুনাম। তাই সুযোগ পেলেই ভ্রমণপিপাসুরা ছুটছেন সেখানে।

ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে হাওরের পানিতে আকণ্ঠ ডুবে থাকা ছোট ছোট সবুজ গ্রাম। গ্রামের বাজার থেকে কিনে নিতে পারবেন হালকা নাস্তা। খোলা আকাশের নিচে নৌকার ছাদে বসলে হাওরের ফুরফুরে বাতাস আপনার গায়ে আদরের আলতু পরশ বুলিয়ে যাবে। ঘুরতে ঘুরতে চলে যাবেন ছাতিরচরে। নিকলী বেড়িবাঁধ থেকে নৌকায় সরাসরি ছাতিরচর যেতে ঘণ্টাখানেক সময় লাগে। নৌকাযোগে ৩ ঘণ্টায় অনেক জায়গা ঘুরতে পারবেন এখানে।

হাওরে বেড়ানোর জন্য ঘন্টা হিসেবে নৌকা ভাড়া পাওয়া যায় এখানে। ১ ঘণ্টার জন্য সাধারণত ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেয়। তবে নৌকায় ওঠার আগে অবশ্যই দরদাম করে ভাড়া ঠিক করে নেবেন। ১৫-২০ জন অনায়াসে নাচানাচি করে ঘুরতে পারবেন এসব নৌকায়। নৌকার সাইজ অনুযায়ী ভাড়া খুব একটা কম-বেশি হয় না। তাই বড় নৌকা নেওয়াই ভালো।

কিভাবে যাবেন :

ঢাকার সায়েদাবাদের পাশে গোলাপবাগ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে সোজা পুলেরঘাট যাবেন। পুলেরঘাট থেকে অটোরিকশা নিয়ে পৌঁছে যাবেন নিকলী বেড়িবাঁধে। এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে চড়ে সোজা কিশোরগঞ্জ যেতে পারেন। সেখান থেকে নিকলী যাওয়া যায়। নিকলীর চেয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে থাকা-খাওয়ার সুবিধা তুলনামূলক বেশি।

কোথায় থাকবেন :

আপনি যদি চাঁদ উজাড় করা পূর্ণিমা কিংবা চন্দ্রভ‚ক অমাবশ্যার সৌন্দর্য মনভরে উপভোগ করতে চান তাহলে আপনাকে রাত কাটাতে হবে নৌকায়। নৌকার ছাদে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারাদের বিচরণ দেখে দেখে কাটিয়ে দিতে পারেন রাত। তবে হাওরে নৌকায় রাত কাটাতে চাইলে নিরাপত্তার জন্য নিকলী থানায় আগে জানাতে হবে। আর রাতে অবশ্যই বেড়িবাঁধের কাছাকাছি জায়গায় থাকতে হবে।

এছাড়া নিকলীতে থানা পুলিশের একটি ডাকবাংলো আছে। সেখানে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেন। সেটার ব্যবস্থা না হলে থাকতে পারবেন কিশোরগঞ্জ শহরে। এখানে মধ্যম মানের বেশকিছু হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন :

নিকলীতে খাবারের তেমন ব্যবস্থা নেই। বাজারে কয়েকটি ছোট রেস্তোরাঁ আছে। তবে বেড়িবাঁধে ঢোকার সময় একটি রেস্তোরাঁ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *