সর্বশেষ :

একক গজলসন্ধ্যায় গজল পরিবেশন করছেন আমীন বাদল।

একক গজল সন্ধ্যা মাত করলেন আমীন বাদল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটস ক্লাবের উদ্যোগে সাপ্তাহিক ছুটিরদিন শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিল্পী আমিন বাদলের একক গজল সন্ধ্যা।
গজল সন্ধ্যায় আমিন বাদলের একক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মোহাবিষ্ট করে রাখে। একের পর এক উপমহাদেশের বিখ্যাত সব গজল গেয়ে শুনান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক মঈনুল হাসান মিতুল। এ সময় উর্দু গজলের নানা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক জাভেদ হোসেন।

শিল্পী আমীন বাদলের জন্ম ১৯৬২ সালের ১৫ আগষ্ট চাঁদপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। স্কুল জীবনে সঙ্গীতে হাতেখড়ি ‘চাঁদপুর সঙ্গীত নিকেতনে’। তিনি চাঁদপুর জেলার নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। স্কুল এবং কলেজ জীবনে বহু অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে কুড়িয়েছেন অনেক সুনাম, অর্জন করেছেন অনেক খ্যাতি। এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে কৃতকার্য হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে আমীন বাদল ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সেখান থেকে ভ‚গোল বিভাগে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি লেখাপড়া ও ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি সঙ্গীত চর্চাও অব্যাহত রেখেছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম দিয়েছেন।

ছেলেবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আমীন বাদলের ছিল গভীর অনুরাগ ও আগ্রহ। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে তিনি সঙ্গীতে তালিম নেয়া শুরু করেন। এছাড়াও তিনি উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনেক পুরোধা পন্ডিত/ওস্তাদগণের সান্নিধ্য লাভ করেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি গভীর প্রেম, অধ্যবসায় আর ওস্তাদগণের তালিম অনুসরণ করে আমীন বাদল খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই পৌঁছে যান সঙ্গীত জ্ঞানের উচ্চস্তরে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে শুরু হয় তাঁর সঙ্গীত জীবনের নবযাত্রা, আত্মনিবেদন করেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে পরবর্তীতে সর্বোচ্চ গ্রেড তথা ‘বিশেষ গ্রেড’ লাভ করেন। উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত যেমন – খেয়াল, ঠুমরি ও গজল -এ তিনি নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করতে থাকেন।

আমীন বাদল এই শিক্ষাই লাভ করেছেন যে, গজল পরিবেশনের জন্যে এর বিশ্লেষণাত্বক ভাবার্থ অনুধাবন করা এবং শুদ্ধতা বজায় রাখা অত্যাবশ্যকীয়। সেই লক্ষ্যে তিনি গজলের উপর উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ ও উর্দু ভাষায় পারদর্শিতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ভারতের লক্ষ্ণৌ  যান এবং জনাব জমির হোসেন খানের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। বাংলাদেশে গজলের যেকোন জটিল বিষয়ে তিনি লেখক ও গবেষক জাভেদ হোসেন, উর্দু কবি শামীম জামানভি, কবি তালিব কবির এবং কামাল হোসেন -এর সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন সবসময়।

ব্যক্তি জীবনে আমীন বাদল একেবারেই প্রচারবিমুখ একজন মানুষ। কিন্তু তাঁর পরিণত শিক্ষা আর অধ্যবসায় তাঁকে গজল সঙ্গীতের উচ্চতর আসনে স্থান করে দিয়েছে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটস ক্লাবের একজন আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *