সর্বশেষ :

চলতি বছরে উহান ভ্রমণে যেতে চায় বেশিরভাগ চীনা পর্যটক

ট্রাভেলার নিউজ ডেস্ক :

ব্যাপারটা অপ্রত্যাশিত হলেও সত্য! কোভিড-১৯ সংকট শেষ হয়ে গেলে চীনা পর্যটকরা নিজেদের দেশের যেসব স্থান ঘুরে দেখতে চান সেগুলোর তালিকায় শীর্ষে আছে উহান! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চীনের হুবেই প্রদেশে অবস্থিত এই শহরই করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল।

লকডাউনের পর অভ্যন্তরীণ যেসব শহরে চীনা পর্যটকদের বেড়ানোর ইচ্ছে আছে সেই তালিকায় বেইজিংকে টপকে গেছে উহান। অথচ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এদিক দিয়ে শহরটি ছিল আট নম্বরে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা ভাষার একটি হ্যাশট্যাগ এখন ট্রেন্ডিং। এর বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘মহামারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যে শহরগুলোতে বেড়াতে চায় সেই তালিকায় শীর্ষে আছে উহান।’ এ বিষয়ে উইবোতে ২৫ হাজার আলোচনা ও ২ কোটি ৭০ লাখ ভিউ হয়েছে।

হ্যাশট্যাগটি জুড়ে দিয়ে একজন উইবো ব্যবহারকারীর মন্তব্য, ‘আমি মনে করি, উহানের প্রতি সবার আগ্রহের মূল কারণ শহরটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত পেরিয়ে এসেছে। মহামারি পরিস্থিতির কারণেই উহান আমাদের মনে ছাপ ফেলেছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে উহানের বাসিন্দাদের অধ্যবসায় ও পরিশ্রম আমরা দেখেছি।’

কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রবণতা নিয়ে যৌথভাবে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে ট্যুরিজম রিসার্চ সেন্টার অব চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেস ও টেনসেন্ট কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ সেন্টার। গত ২৮ এপ্রিল এর ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৩টি প্রশ্নাবলী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও ফোরামের ২ কোটির বেশি পোস্টসহ বিশাল তথ্য। এছাড়া ছিল এক ডজন মানুষের সাক্ষাৎকার।

পর্যটন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক সং রুই বলেন, ‘সমীক্ষাটিতে গোটা চীনের সব শ্রেণির মানুষের গভীর আবেগ ফুটে উঠেছে বলা যায়। এর মাধ্যমে নায়কোচিত শহরটির জন্য জনগণের চিন্তা ও সমর্থন প্রকাশিত হয়েছে।’

হুবেই প্রদেশের ৩ হাজার ২৫৩ বর্গকিলোমিটারের বনাঞ্চল শেনংজিয়া এবং উহান শহরের ইউলো ক্রেন টাওয়ার শীর্ষ ২০ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

দেশের বাইরে ২০২০ সালে বেশিরভাগ চীনা পর্যটকের কাঙ্ক্ষিত ভ্রমণ গন্তব্য ছিল থাইল্যান্ড। তালিকায় দুই ও তিন নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে রাশিয়া ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্র ওপরের দিকে থাকলেও নতুন সমীক্ষায় শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে পড়েছে।
এদিকে মহামারির কারণে বদলে গেছে চীনা পর্যটকদের মনোভাব ও পরিকল্পনা। গত বছর সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে যেতে আগ্রহীদের মধ্যে ৩০-৪৪ শতাংশ এখন আর ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিতে চান না। এক-তৃতীয়াংশ পর্যটক কোভিড-১৯ সংকট শেষের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ভ্রমণে বের হতে ইচ্ছুক। সমীক্ষায় জানা গেছে, চীনাদের প্রত্যেককে ৮১৩ ডলার করে খরচ পড়বে বেড়াতে। গত বছরের চেয়ে যা ১০৩ ডলার বেশি।

মানুষ মাত্রই মৃত্যু ও ট্র্যাজেডিতে আগ্রহী! এ দুটি বিষয়ে সবারই কৌতূহল থাকে। সেজন্যই কিনা গত বছর ইউক্রেনের পরিত্যক্ত শহর চেরনোবিলে পর্যটকদের ঢল নামে। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক বিস্ফোরণস্থল এটি। দুর্ঘটনার তিন দশক পর যুক্তরাষ্ট্রের এইচবিও চ্যানেলের নতুন একটি টিভি সিরিজের সুবাদে পৃথিবী গ্রহের আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে ওঠে চেরনোবিল। উহানের জনপ্রিয় হয়ে ওঠার ব্যাপার অনেকটা তেমনই!

তথ্যসূত্র: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *