সর্বশেষ :

করোনার ছোবলে  ধস নেমেছে হবিগঞ্জের পর্যটনশিল্পে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

উদীয়মান শিল্প নগরী হবিগঞ্জের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু মনোরম পর্যটনকেন্দ্র ও দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে হবিগঞ্জের এসব পর্যটনকেন্দ্রগুলো মুখ থুবড়ে পরেছে। জেলার ২৪টি চা বাগান, ৩টি রাবার বাগান, বিস্তৃত হাওড়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা জাতীয় উদ্যান, খাসিয়া পুঞ্জি, গ্রিন ল্যান্ড পার্ক, শাহজীবাজার গ্যাস ফিল্ডে অবস্থিত ফ্রুটস ভ্যালি, সাগর দীঘি, মহাগ্রাম বানিয়াচঙ্গ, সিপাহসালার সৈয়দ নাছির উদ্দিনের মাজার, শাহ সোলায়মান ফতেহ গাজীর মাজার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তেলিয়াপাড়া চা বাগানসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকশূন্য।

ট্রি অ্যাডভেঞ্চার, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান

হবিগঞ্জের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হচ্ছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে। প্রতিবছর এখানে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। নতুন করে এখানে চালু হওয়া ট্রি অ্যাডভেঞ্চার দর্শণার্থীদের মকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে বছরের শুরুতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পিকনিক, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, দুই ঈদ ও বাংলা নববর্ষে এখানে পর্যটকের ঢল নামে। এ সময়ে এখানে রাজস্ব আদায় বেড়ে যায় বহুগুণ। কিন্তু এবার করোনার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো পর্যটন এলাকা। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষ ও রমজানের ঈদে এখানে কোনো পর্যটকের আগমন ঘটেনি। আসন্ন কোরবানি ঈদেও পর্যটক আসা অনিশ্চিত।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুহিন আহমেদ জানান, করোনার জন্য এ বছর কয়েক লাখ টাকা রাজস্ব আয় কমেছে। যারা গাইড হিসাবে কাজ করেন তারাও বেকার হয়ে পড়েছেন।

বিথাঙ্গল আখড়া, হবিগঞ্জ

ইউএসএইডের অর্থায়নে এবং বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের তত্বাবধানে (সিএনআরএস) বাস্তবায়নাধীন ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস্ অ্যান্ড লাইভহুডস্ (ক্রেল) প্রকল্পের আওতায় রূপ ৪ নামক একটি পর্যটনবিষয়ক গ্রুপের সহযোগিতায় সম্প্রতি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নির্মিত হয়েছে ট্রি অ্যাডভেঞ্চার। এর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটি। কিন্তু এবার আয় কমে যাওয়ায় এর সাথে জড়িতদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। শুধু সাতছড়ি নয়, চুনারুঘাট উপজেলার রেমা-কালেঙ্গা জাতীয় উদ্যানেও নেই পর্যটক। চা বাগান দেখতেও আসছে না কোন দর্শণার্থী। ফলে পর্যটনকেন্দ্রীক সকল ব্যবসা ও পেশা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

রিসোর্ট দি প্যালেস

এদিকে বর্ষাকালে জেলার হাওর এলাকায় নৌ ভ্রমণও এবার চোখে পড়ছে না। প্রতিবছর নৌকা সাজিয়ে জেলার বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল ও দিল্লির আখড়াসহ হাওরের সৌন্দর্য্য দেখতে ছুটে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। কিন্তু এবার সে জমজমাট ভাব নেই চারদিকে সুনশান নীরবতা।

এদিকে পর্যটক না থাকায় হবিগঞ্জের হোটেল ব্যবসায় ধস নেমেছে। হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী এলাকায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় রিসোর্ট দি প্যালেস প্রতিমাসে ২ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। অন্যান্য আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টগুলোরও একই অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *