সর্বশেষ :

সৈকতে ময়লা কুড়াচ্ছে তারেক-মিলি নবদম্পতি

ভিন্ন রকম এক মধুচন্দ্রিমা ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ট্রাভেলার নিউজের পাঠকদের জন্যে সম্প্রতি এক ভিন্ন রকম মধুচন্দ্রিমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন নবদম্পতি তারেক আজিজ ও জান্নাতুল বাকেয়া মিলি। ঈদুল আযহার ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ৩ আগস্ট এই নবদম্পতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরের দিনই মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করতে চলে যান কক্সবাজার। তারেক আর মিলি পেশাগত জীবনে দু’জনেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

কথায় আছে. ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’। এদের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। তারা যেখানেই যান সেখানেই সমাজের নানা অসঙ্গতি তাদের চোখে পড়ে। হানিমুন করতে গিয়েও সমুদ্র সৈকতের নোংরা আবর্জনা তাদের দৃষ্টি এড়ায় না। পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে এই নবদম্পতি শুরু করে দেন পরিচ্ছন্ন অভিযান।

তারেক আজিজ বলেন, ‘আমি ভালো কাজে উদ্দীপনা খুঁজে পাই। আমার স্ত্রী মিলিও ঠিক আমারই মতো। আমরা দু’জন মিলেই এগিয়ে যেতে চাই অনেকদূর, ভালো কাজের সাথে…।’

সৈকতে ময়লা কুড়াচ্ছে তারেক-মিলি নবদম্পতি

চলমান করোনা সংকটে সবাই যখন ঘরবন্দী ছিল, তখন তারেক ছিলেন মানুষের সেবায়। এ সময় মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি।

তারেকে বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে। আর মিলির বাড়ি একই জেলার আশুগঞ্জে। জাগো ফাউন্ডেশনে সেচ্ছ্বাসেবক হিসেবে কাজ করতে এসে দ’ুজনের পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রণয়, আর প্রণয় থেকে পরিণয়ে গড়াতে তারা সময় নিয়েছেন ৫ বছর। চলতি মাসের ৩ তারিখে তারা গাঁটছড়া বাঁধেন। পরের দিন ৪ আগস্ট বিমানযোগে উড়াল দেন কক্সবাজারে। সেখানে ৫ তারিখে সমুদ্র সৈকতে বর-কনে বেশেই ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করেন তারা। এর কয়েকটা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

তারেক বলেন, ‘কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকায় আমাদের ছবি ছাপা হয়েছে এটা আমরা জানতাম না। এরপর ৮ তারিখ কক্সবাজার এর জেলা পুলিশের সম্ববত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন নামে একজন আমাদের ডেকে নিয়ে একটি পেনড্রাইভ ও আমার স্ত্রীকে একটি চাবির রিং উপহার দেন। সাতে আমাদের কাজের অনেক প্রশংসা করেন।

সৈকত ভ্রমণে নবদম্পতি।

পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সবসময়ই মাথায় রাখেন তারেক। নিজের এই চিন্তাকে তিনি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চান। গণমাধ্যম আর সামাজিক মাধ্যমে তাদের কর্মকান্ড প্রশংসিত হওয়ায় তারেক এ ধরণের কাজের সঙ্গে আরো বেশি করে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে তৎপর হন। মনে মনে তিনি ‘ক্লিন ওয়াল্ডর্, গ্রিন ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক একটা স্লোগানও ঠিক করে ফেলেন। তারেক বলেন, আমি আমার এই স্লোগানটা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। এর জন্য নিরন্তর কাজ করে যাবো। তবে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করতে। বিগত ১০ বছর ধরে ওদের নিয়েই আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *