সর্বশেষ :

প্রাণের স্পন্দন ফিরতে শুরু করেছে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে

ট্রাভেলার নিউজ ডেস্ক :

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিল মানুষ। কয়েক মাস টানা গৃহবন্দি থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছিল তারা। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায এখন তাই বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে ছুটে যাচ্ছে খোলা হাওয়ায়। ফলে একটু একটু করে প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। খরা কাটছে পর্যটকনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের।

সাগরের নোনা জলে পা ভিজিয়ে খোলা হাওয়ায় নিজেকে নির্ভার করতে এরই মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভিড় করছে বহু মানুষ। কুয়াকাটাও সাগরপ্রেমীদের পদচারণে মুখর। পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা ঝরনার সৌন্দর্য, কাপ্তাই লেকের শোভা উপভোগ করতে রাঙামাটিতে বাড়ছে পর্যটকদের আনাগোনা। হাওরাঞ্চলেও ছুটছেন অনেকে। চা বাগান আর পাহাড়ের টানে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটে যাচ্ছেন কেউ কেউ। তবে প্রশাসনের কড়াকড়িতে এখনো সেভাবে প্রাণ ফেরেনি সিলেটের পর্যটনে।

টানা পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার আপন ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে আবার। ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট কক্সবাজার ভ্রমণে প্রশাসনের বিধি-নিষেধ ছিল। বিধি-নিষেধ উঠে যাওয়ায় করোনাভীতির মধ্যেও বাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি। হাসি ফুটতে শুরু করেছে সাগরপারের ব্যবসায়ীদের মুখে। হোটেল-রেস্তোরাঁর খরা কাটতে শুরু করেছে।

করোনা সংকটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খুলে দেয়া হয়েছে পার্বত্যজেলা বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলি। পর্যটকদের উপস্থিতি আগের মত না থাকলেও একটু একটু সরব হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রগুলি। নীলাচল, নীলগিরি, স্বর্ণমন্দিরসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আস্তে আস্তে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে। পর্যটকদের আগমনের ফলে বান্দরবানের হোটেল- মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ে গতি ফিরতে শুরু করেছে।

টানা ছয় মাস বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বর থেকে চালু হয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। স্বাস্থ্যবিধি মানার সাতটি শর্তে সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট-হোটেল-মোটেল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন। পর্যটকদের আনাগোনায় আবার একটু একটু করে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে পর্যটননির্ভর পাহাড়ের এই জনপদে। এত দিনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন হোটেল মালিকরা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন এখনো চেনা ছন্দে ফেরেনি। আশা করছি শিগগিরই সব স্বাভাবিক হবে।’

এ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। জেলার ২৪টি চা বাগান, তিনটি রাবার বাগান, হাওর, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা জাতীয় উদ্যান, খাসিয়া পুঞ্জি, গ্রিনল্যান্ড পার্ক, শাহজীবাজার ফ্রুটস ভ্যালি, সাগরি দিঘি, মহাগ্রাম বানিয়াচং, সিপাহসালার সৈয়দ নাছির উদ্দিনের মাজারসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের উপস্থিতি ক্রমশঃ বাড়ছে। এ ছাড়া কালারডোবা থেকে নৌকা নিয়ে হাওর ভ্রমণ এবং স্পিডবোট ভ্রমণে আসছে হাজারো মানুষ।

সবুজে মোড়ানো বহু চা বাগান ছাড়াও জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি, সাদাপাথর, শ্রীপুর, মায়াবী ঝরনা, লালাখাল, জৈন্তাবাড়িসহ বহু পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান সিলেটে। রয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার। কিন্তু এসব স্থান এখনো খাঁ খাঁ করছে। সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের হোটেল গোল্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক মৃদুল কান্তি দত্ত বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন এই শিল্পে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবস্থা আসলেই খুব খারাপ।’ এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের শোভা উপভোগ করতে আবার কুয়াকাটায় ভিড় করছে সৌন্দর্যপিপাসুরা। গঙ্গামতিচর, ঝাউবন, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধবিহার পর্যটক এবং দর্শনার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত হচ্ছে। দুপুরে কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার পর্যটক সাগরে নেমে শরীর জুড়িয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে বৃহস্পতি ও শুক্রবার পর্যটকে সয়লাব হয়ে পড়ছে কুয়াকাটার দর্শনীয় স্পটগুলো।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব শরীফ জানান, ১ জুলাই থেকে কুয়াকাটা সৈকত পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে পর্যটকের আগমন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *