সর্বশেষ :
অবাধ্য পর্যটক ঠেকাতে মাউন্ট ফুজিতে দেয়াল তুললো জাপানপর্যটন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামদুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এক যাত্রীর মৃত্যুঅবশেষে কক্সবাজার ফিরছেন সেন্টমার্টিনে আটকাপড়া পর্যটকরাবিদেশি পর্যটকদের ক্যাসিনোসহ বিনোদন নিশ্চিতের সুপারিশপর্যটকদের বিস্ময় শমশেরনগরের ক্যামেলিয়া লেকপদ্মাসেতুকে ঘিরে পর্যটন খাতে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচিপর্যটন ভবনের ছাদে রুফটপ রেস্টুরেন্ট উদ্বোধন করলেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রীসেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বিধি-নিষেধ আরোপনতুন বিমান ‘ধ্রুবতারা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Sajek Valley, Bangladesh

সাজেক ভ্যলী, বাংলাদেশ

পর্যটন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ – ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক::

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ভ্রমণ ও পর্যটন সূচকে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। আলোচ্য সূচকে বিশ্বের ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার শেষে।

যুক্তরাজ্যের সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই সূচক প্রণয়ন করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। দ্বিবার্ষিক এই সূচকে বিভিন্ন উপাদান ও সরকারের নীতি পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, সরকার যথাযথ নীতি প্রণয়ন করলে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন হতে পারে; পরিণামে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও এই খাত ভূমিকা রাখতে পারে।

সূচকে ৭ পয়েন্টের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩.১৯ পয়েন্ট। ফলে দেখা যাচ্ছে, কেবল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার যে পাঁচটি দেশ এই সূচকে স্থান পেয়েছে, তাদের মধ্যেও বাংলাদেরেশর অবস্থান সবার পেছনে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে রয়েছে ভারত। ৭-এর মধ্যে তারা পেয়েছে ৪.২৫। সামগ্রিক ক্রমতালিকায় ভারতের অবস্থান ৩৯। এরপর আছে শ্রীলঙ্কা। ৩.৬৯ পয়েন্ট নিয়ে ক্রমতালিকায় ৭৬তম স্থানে আছে তারা। ৩.৪১ পয়েন্ট নিয়ে ১০১তম স্থানে আছে পাকিস্তান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নেপালের রাজস্ব আয়ের মূল উৎস পর্যটন হলেও দেশটির প্রাপ্ত নম্বর মাত্র ৩.৩৪ এবং বৈশ্বিক অবস্থান ১০৫তম।

এই সূচকে ১৭টি মাত্রা, ১৭টি স্তম্ভ ও ১০২টি পৃথক নির্দেশক ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নির্দেশক আবার বিভিন্ন স্তম্ভের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মাত্রাগুলো হলো সহায়ক পরিবেশ, ভ্রমণ ও পর্যটন বিষয়ক নীতি, অবকাঠামো ও সেবা, পর্যটন ও ভ্রমণের সম্পদ এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব।

যেসব মানদন্ডে এই বিচার করা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো করেছে পর্যটন ও ভ্রমণবিষয়ক সম্পদের মানদন্ডে। সেটা হলো, যেসব বিষয় মানুষকে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে ভ্রমণে উৎসাহী করে, যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ এবং সরাসরি ঠিক বিনোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়ের উপস্থিতি।

এর অর্থ হলো, বাংলাদেশে ভ্রমণ ও পর্যটনের যথেষ্ট উপকরণ থাকলেও পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারছে না। যেমন, বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার আর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মত আকর্ষণীয় স্থান থাকা সত্তে¡ও বাংলাদেশ তেমন একটা পর্যটক আকর্ষণ করতে পারছে না। এর জন্য যে আনুষঙ্গিক আয়োজন থাকা দরকার, তা না থাকার কারণে এসব স্থানের আকর্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। সে জন্য ‘পর্যটন ও ভ্রমণের স্থায়িত্ব’ মাত্রার সূচকে সবচেয়ে খারাপ করেছে বাংলাদেশ।

যথারীতি সূচকের শীর্ষে উন্নত দেশগুলোর অবস্থান। সবার প্রথমে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ৭-এর মধ্যে এই দেশ পেয়েছে ৫.২৪। এরপর ৫.১৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইউরোপের দেশ স্পেন। ৫.৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে জাপান।

তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে ক্যামেরুন, সিয়েরা লিওন ও মালি। ২.৯৯ পয়েন্ট নিয়ে ১১৭তম স্থানে আছে ক্যামেরুন; ২.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে ১১৮তম স্থানে আছে সিয়েরা লিওন আর ২.৭৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষে বা ১১৯তম স্থানে মালি।

মহামারির পর মানুষ আবার ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে। বলা যায়, এই প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে পর্যটন খাতের আকার বাড়ছে। বিশ্বভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যটন খাত যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যটন খাতের আকার ১৫.৫ ট্রিলিয়ন বা ১৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তখন এই খাতের হিস্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১১.৫ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *